বিদ্যালয়ের ইতিহাসঃ
কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ঠাকুরগাঁও জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টি ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে, ভূল্লী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে এক মনোরম ও শান্ত পরিবেশে অবস্থিত।
উত্তরবঙ্গের শিক্ষার প্রসারে ১৯৭০ সালে তৎকালীন কুমারপুর গ্রাম ও মৌজার কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ উদ্যোগ ও সার্বিক সহায়তায় বিদ্যালয়টির শুভ সূচনা ঘটে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে তার শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করে।
পরবর্তীতে শিক্ষার গুণগত মান বজায় রেখে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) যাবতীয় শর্তাবলী সাফল্যের সাথে পূরণ করে, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৫ সালে পূর্ণাঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি ও অনুমোদন লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্থানীয় জনপদের হাজারো শিক্ষার্থীর আলো ছড়ানোর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিদ্যালয়টি তার অনন্য গৌরবময় ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিদ্যালয়ের নামকরণঃ
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে ঠাকুরগাঁও জেলার এই অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মহান উদ্দেশ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ একতাবদ্ধ হয়ে একটি বিদ্যালয় স্থাপনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়টি তৎকালীন স্থানীয় কুমারপুর গ্রাম ও মৌজার প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে এর ভৌগোলিক পরিচিতি ও ঐতিহ্যকে স্থায়ী রূপ দিতে সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয় "কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়"।
মিশন ও ভিশনঃ
জেলা শহর থেকে কিছুটা দূরে, ভূল্লী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে ছায়াঘেরা ও মনোরম পরিবেশে আমাদের বিদ্যালয়টির অবস্থান। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত ও দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারগুলোর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আগামী বিশ্বের যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও মিশন।
আমাদের সুনামের মূল ভিত্তি অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকবৃন্দ, যাঁদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ৭০০-এর বেশি শিক্ষার্থী জ্ঞানার্জনে রত রয়েছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তির স্বল্পতা এবং আর্থ-সামাজিক দারিদ্র্যের নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও শুরু থেকেই আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিটি বোর্ড পরীক্ষায় অত্যন্ত সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করে আসছে।
তথ্য-প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। ঝরে পড়ার হার কমিয়ে মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে ২১ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মেধা, মনন ও সৃজনশীলতায় সমৃদ্ধ দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আমাদের নিরন্তর প্রয়াস অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
